Contain performance

Friday, February 24, 2023

স্বর্ন মন্দির, বান্দরবন

 বান্দরবন জেলা থেকে প্রায় ৯ কি.মি দূরে স্বর্ন মন্দির অবস্থিত।



 এই স্বর্ন মন্দির বান্দরবন শহরের বালাঘাট এলাকায় অবস্থিত। বাংলাদেশের বৃহত্তর মুর্তি এই মন্দিরে রয়েছে। এটি বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা বড় হীনযান বৌদ্ধ মুর্তি। দেবতা পুকুর নামে পরিচিত পুকুর এই পাহাড়ে অবস্থিত। সারে তিনশত ফুট উচ্চতায় এই পুকুরে সব মৌসুমে পানি থাকে। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধারণা এটা দেবতা পুকুর তাই সব সময় এখানে পানি থাকে। যদিও এই মন্দিরটা স্বর্ন মন্দির নামে পরিচিত কিন্তু এটাকে অনেকে বুদ্ধ ধাতু জাদি নামে বলে থাকেন। এই মন্দির কে অনেকে মহাসুখ মন্দির ও বলে থাকে। তবে সোনালি রংয়ের কারনে স্বর্ন মন্দির নামে পরিচিত হয়েছে। এই মন্দির তৈরি করতে মায়ানমার থেকে কারিগর এনে তৈরি করা হয়েছে। ২০০৪ সালে এর কাজ সম্পন্ন হয়। এই মন্দিরে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্য ভ্রমনার্থীদের জন্য টিকিট কেটে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। তবে মন্দিরের মূল অংশে যেখানে মুর্তি বা জাদিটি রয়েছে সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। সাথে বৌদ্ধদের আসনে কাউকে বসতে দেওয়া হয় না। সকাল ০৭.৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে তবে সন্ধ্যা ০৬.০০টার  পর মুলত দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। মন্দিরে যাবার সময় অবশ্যই মনে রাখবেন হাফ প্যান্ট,শর্ট প্যান্ট,লুঙ্গি, অশালীন পোশাক ও জুতা পরে মন্দিরে ডুকতে দিবে না। 

এই জাদিটি এখন বৌদ্ধধর্মলম্বীদের তীর্থ স্থানই নয় বরং দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে অন্য তম আকর্ষণীয় স্পষ্ট এ পরিনত হয়েছে। যদিও এই মন্দিরটি স্বর্ন মন্দির নামে পরিচিত কিন্তু এই মুর্তি আসলে স্বর্ন দিয়ে নির্মিত না। সোনালি রংয়ের কারনে এটাকে স্বর্ন মন্দির নামে পরিচিত। আনুমানিক ১০ কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মাণ করা হয় এই মন্দির। এই প্যাগোডাটি দক্ষিন - পূর্ব  এশিয়ার সেরা গুলোর মধ্যে অন্যতম।


মোঃ শওকত আলী 

স্বপ্নবাজ বিডি ট্রাভেলস (ফাউন্ডার এডমিন)

Thursday, February 23, 2023

দর্শনীয় স্থান সমূহ, পার্বত্য জেলা চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে ট্যুরে যাবেন কোথায় কোথায় ঘুরবেন চিন্তা করে পাচ্ছেন না তাহলে এক পলকে দেখে নিন কোথায় কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়।



চন্দ্রনাথ পাহাড় 

চন্দ্রনাথ মন্দির 

মহামায়া লেক

গুলিয়াখালী বিচ 

বাঁশ বাড়িয়া সি বিচ

খৈয়াছড়া ঝর্ণা 

কমলদহ ঝর্ণা 

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল 

কুমিরাঘাট

সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক 

বান্দরবন ঘুরতে যাবেন কোন কোন স্পষ্ট এ যাওয়া যায় ভেবে পাচ্ছেন না। তাহলে এক পলকে মিলিয়ে নিন আপনার ইভেন্ট কোথায় কোথায় দেওয়া যেতে পারে। 

বাকলাই জলপ্রপাত 

বগালেক

নীলগিরি 

চিম্বুক পাহাড় 

ডিম পাহাড় 

ডাবলহ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট 

টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট 

শৈল প্রপাত 

নীলাচল 

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র 

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র

স্বর্ন মন্দির 

দেবতাখুম 

আমিয়াখুম

নাফাখুম জলপ্রপাত 

সাতভাই খুম

বেলাখুম

রেমাক্রি ফলস

থানচি 

তিন্দু 

কেওক্রাডং 

মারায়নতং

জাদিপাই জলপ্রপাত 

চিড়িং ঝিরি জলপ্রপাত 

রিজুক জলপ্রপাত 

পাতাং জারি জলপ্রপাত 

ফাইপি জলপ্রপাত 

প্রান্তিক লেক

তাজিনডং পাহাড় 

তিনাপ সাইতার/পাইন্দু সাইতার

ডাবল ফলস/ক্লিবুং ঝর্ণা 

মিলনছড়ি 

আন্ধারমানিক

রুপ মুহুড়ি ঝর্ণা 

আলির গুহা 

মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স 

নীল দিগন্ত 

জাদি পাড়ার রাজবিহার 

উজানি পাড়ার বিহার 

কিয়াচলং হ্রদ 

সাঙ্গু নদী 

মুনলাই পাড়া, রুমা

নাইক্ষংংছড়ি লেক

কংলাক পাহাড় 

সহ আরও রুপ বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি নিয়ে সজ্জিত বান্দরবন পাহাড়ি এই জনপদ গুলো। চারিপাশে সবুজের সমারোহ দিয়ে হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতির সব সৌন্দর্য নিয়ে....

খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত পর্যটন কেন্দ্র সমূহ 

পাহাড়, নদী, ছড়া,ঝর্ণা, পাহাড় ও সমতল ভূমি মিলে অপরুপ সৌন্দর্যময় এক ভূখণ্ড খাগড়াছড়ি। 

সাজেক ভ্যালি

আলুটিলাগুহা

হাতিমাথা

হর্টিক্যালচার হ্যারিটেজ পার্ক

দেবতা পুকুর 

মায়াবীনি লেক

রিছাং ঝর্ণা 

শান্তি পুর অরণ্য কুঠির 

বিডিআর সৃতিসৌধ

রাঙামাটি পর্যটন স্থান গুলো ঘুরে আসুন, নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করুণ 

কাপ্তই হ্রদ 

রাজবন বিহার 

ঝুলন্ত ব্রিজ 

শুভ লং ঝর্ণা 

নৌবাহিনীর পিকনিক স্পট

সাজেক ভ্যালি

কাপ্তাই বাঁধ 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র 

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান

উপজাতীয় জাদুঘর 

টুকটুক ইকো ভিলেজ 

চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার 

বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্র 

ডেলুছড়ি বেতবন বিহার 

হাজারছড়া ঝর্ণা 

হ্যাপি আইল্যান্ড 

পলওয়েল পার্ক

কমলক ঝর্ণা 

মুপ্পোছড়া ঝর্ণা 

এছাড়া পাহাড় বেষ্টনী দ্বারা আবদ্ধ পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। এই অঞ্চলে আদিবাসী গোষ্ঠী চাকমা,মারমা,এিপুরা,মুরং বোম,খুমি,খেয়াং,চাংক,লুসাই,সুজে সাঁওতাল, রাখাইন দের জীবনযাত্রার বৈচিত্র্যময় সব প্রথা দেখতে পারবেন।

বিস্তারিত জানতে স্বপ্নবাজ ভ্রমণ গাইড দেখুন। 

মোঃ শওকত আলী 

স্বপ্নবাজ বিডি ট্রাভেলস (ফাউন্ডার এডমিন) 

Wednesday, February 22, 2023

বান্দরবন পর্যটন স্থান গুলো

 পাহাড়ের চুড়ায় দাড়িয়ে সারি সারি মেঘের ভেসে বেড়ানো দৃশ্য ও মেঘ এসে আপনাকে ভিজিয়ে দিয়ে যাবে হঠাৎ করে,বিষয়ট কেমন হবে ভাবুন তো? সাথে যদি প্রকৃতি ও আপন রুপে সাজে রঙিন হয়ে। প্রকৃতির সাথে মিতালি গড়তে গড়তে যদি দূর পাহাড়ের কোল ঘেঁষে প্রবাহিত স্রোতস্বীনি ঝর্ণা চোখে পরে তবে বিষয়টি হবে সোনায় সোহাগা বা ষোলকলা পূর্ণ। 

এতক্ষন পাহাড়ি কন্যা বান্দরবান এর কথাই বলছিলাম, যেখানে পাহাড়, ঝর্ণা ও মেঘের দেখা মিলবে একসাথে।  সাথে বাড়তি পাবেন প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ। 

পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবান একটি জেলা যার পূর্ব দিকে মায়ানমার, দক্ষিণ-পশ্চিম এ কক্সবাজার এবং উত্তর দিকে রাঙামাটি।  এর উত্তর - পশ্চিমে চট্টগ্রাম। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সাজানো বান্দরবান। 

আজকে আমরা বান্দরবানের দর্শনীয় কিছু স্থান সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করবো।

নীলগিরিঃ

নীলগিরি বান্দরবান থেকেও অধিক পরিচিত সকালের কাছে। নীলগিরি হচ্ছে "বাংলার দার্জিলিং" নাম খ্যাত স্থান,চোখ ধাধানো সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে চলে আসতে হবে বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ২২০০ ফুট উচ্চতার পাহাড়ে। এখানে আসলে দেখতে পাবেন মেঘেদর লুকোচুরি, তাই মেঘ ছুঁতে চাইলে আপনাকে সমতল সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট উপরে চলে আসতে হবে। বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্র এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হলো নীলগিরি। সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয় নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র। যেহেতু সেনাবাহিনীর পরিচালনায় স্পষ্ট তাই নিরাপত্তা নিয়ে কোন শংঙ্কা নেই। আকাশ পরিস্কার থাকলে আপনি বগালেক,কেওক্রাডং,কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত সাথে চট্টগ্রাম বন্দর ও সাঙ্গু নদী দেখতে পারবেন । নীলগিরির কাছেই রয়েছে আদিবাসী গোষ্ঠীর গ্রাম। আপনার সময় ও ইচ্ছে থাকলে জেনে নিতে পারেন তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি সমন্ধে । সবুজ পাহাড়ি পরিবেশ আর মেঘের লুকোচুরি আপনাকে বিমোহিত করে রাখবে প্রতিটি মূহুর্ত।

নীলাচলঃ

নীলাচল তার পূর্ণ রুপ ধারণ করে সকালের মেঘের খেলা আর বিকেলের সূর্যাস্তের সময়। আপনি সূর্যাস্ত দেখতে চাইলে অবশ্যই আসতে হবে নীলাচলে। একি সাথে একটা আকাশে দুই রং দেখতে চাইলে সূর্য ডোবার আগেই আপনাকে থাকতে হবে  নীলাচল। উপরে সাদা নীচে নীল রংয়ের আভা তাই টই জায়গার নাম নীলাচল। বান্দরবান শহর তেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০০ ফট উপরে টাইগার পাড়ায় পাহাড়ের উপরে নীলাচল অবস্থিত।  নীলাচল অনেকের কাছে টাইগার হিল নামেও পরিচিত। আঁকাবাকা পাহাড়ি পথ,আকাশ, পাহাড় আর মেঘের অপূর্ব প্রকৃতিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হতে সারাদিন থাকতে মন চাইবে নীলাচলে। নীলাচলে থাকার জন্য কয়েকটা বিশ্রামাগার ও আছে তবে রাতে থাকতে চাইলে থেকে যেতে পারবেন রিসোর্টে। মেঘের দেখা পেতে চাইলে খুব ভোরে চলে যেতে হবে নীলাচলে। পাখির ভোরের ডাকের সাথে দেখে নিতে পারেন বান্দরবন পুরো শহরটাকে। 

থানচিঃ। 

থানচি উপজেলার সৌন্দর্য বর্ণনা করে বোঝানোর জন্য লেখালেখি করে আসলে সম্ভব না। প্রকৃতির সৌন্দর্য না দেখলে বুঝা যায় না,এটা এমনই এক সৌন্দর্য যা আপনার দেহ মনকে প্রফুল্ল করে দিবে। বান্দরবন জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলার নাম থানচি। সাফা হাফং,নাফাখুম জলপ্রপাত, বড় পাথর বা রাজা পাথর, বাকলাই জলপ্রপাত, তিন্দু সহ অনেক দর্শনীয় স্থান এই থানচি উপজেলার অন্তর্গত। বান্দরবন থেকে থানচি যাওয়া যায় দুই ভাবে। বাস কিংবা জীপে (চান্দের গাড়ী) করে। বান্দরবন থানচি বাসস্ট্যান্ড থেকে একঘন্টা পর পর লোকাল বাস ছাড়ে,সেগুলো করে থানচি যেতে পারবেন। যেতে ৪-৫ ঘন্টা সময় লাগবে, ভাড়া জনপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা নিতে পারে। আপনি চাইলে জীপ/চান্দের গাড়ি করে লোকালে অথবা চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করেও যেতে পারবেন। চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করলে ৬০০০-৬৫০০ টাকার মতন লাগতে পারে, একটা গাড়িতে ১৪ জন যেতে পারবেন। সময় লাগবে আনুমানিক ৩-৩.৫ ঘন্টা। 



চিম্বুক পাহাড়ঃ

শৈল প্রপাতঃ

কেওক্রাডংঃ

মারায়ন তংঃ

ডিম পাহাড়ঃ

বগালেকঃ

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রঃ

 বান্দরবন যতগুলো পর্যটন স্পষ্ট আছে, সেগুলোর মধ্যে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র অনেক বেশি সুন্দর সম্ভবত।



 বান্দরবন শহরের প্রবেশদ্বার - কেরানী হাট সড়কের পাশে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবন শহরে প্রবেশ করার ৫ কি.মি আগেই পেয়ে যাবেন। মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র চিত্তবিনোদনের জন্য  অনেক কিছু রয়েছে। চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, ক্যাবল কার,সাফারি পার্ক,প্যাডেল বোট,উন্মুক্ত মঞ্চ, চা বাগান, মেঘলা ঝুলন্ত ব্রিজ সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় এক স্পষ্ট। এখানকার সবুজ প্রকৃতি, লেকের স্বচ্ছ পানি আর পাহাড়ের চূড়ায় উঠে  দেখতে পারবেন বান্দরবন শহরের নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্য্যের খেলা। মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে বেশ কিছু উচু নিচু পাহাড় বেষ্টনী দ্বারা একটি লেককে ঘিরে। ঘন সবুজ গাছপালা আর স্বচ্ছ লেকের পানি প্রতিনিয়ত প্রকৃতি প্রেমীদের নিয়ে যায় মনোরম পরিবেশে।


প্রবেশ মুল্যঃ

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে জনপ্রতি প্রবেশ ফি ৫০/- এবং গাড়ি পাকিংয়ের জন্য ২০০-৩০০ টাকার মতন লাগবে

কীভাবে যাবেনঃ

প্রথমে আপনাকে বান্দরবান শহরে যেতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির গাড়ি ছেড়ে যায়।

চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান যেতে পারেন। বদ্দারহাট থেকে বান্দারবানের উদ্দেশে পূবালী ও পূর্বানী পরিবহনের বাস যায়। এরপর বান্দরবান বাস ষ্টেশন থেকে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স যেতে লোকাল বাসে জনপ্রতি ১৫-২০ টাকা এবং টেক্সি রিজার্ভ ১৫০-২০০ টাকা, এবং ল্যান্ড ক্রোজার, ল্যান্ড রোভার ও চাঁদের গাড়ী ৫০-৬০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।

কোথায় থাকবেন

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে জেলা প্রশাসনের একটি সুন্দর রেস্ট হাউজ রয়েছে। যেখানে অবকাশ ভোগ করা যায় ভালভাবে। এখানে রাত্রিযাপনের জন্য চারটি কক্ষ রয়েছে। কেউ রাত্রি যাপন করলে আগে থেকে যোগাযোগ করে বুকিং কনফার্ম করে নিবেন। 

বান্দরবানে অসংখ্য রিসোর্ট, হোটেল, মোটল এবং রেস্টহাউজ রয়েছে। যেখানে ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

কোথায় খাবেনঃ

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র ঘুরতে গেলে আশেপাশে তেমন ভাল মানের  কোন খাবার হোটেল নেই। তবে বান্দরবান শহরে বাস স্ট্যান্ডে গেলে খাবারের হোটেল পাবেন।  কিছু কম খরচে খেতে হলে হোটেল নীল দিগন্ত ও হোটেল গাউশিয়া আছে। ভালো মানের খাবারের জন্য যেতে হবে হোটেল হিল ভিউ ও কলাপাতা রেস্টুরেন্ট।



মোঃ শওকত আলী 

স্বপ্নবাজ বিডি ট্রাভেলস (ফাউন্ডার এডমিন) 

আমিয়াখুমঃ

নাফাখুমঃ

নাফাখুমের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য

নাফাখুম কে বাংলার নায়াগ্রা ও বলা হয়ে থাকে। ঝর্ণা থেকে আসরে পরা পানির প্রচণ্ড আঘাতে ঝরনার চারপাশে অনেকটা স্থানজুড়ে সৃষ্টি করে ঘন কুয়াশা আর এই পানি প্রায় ৩০ ফুট ওপর থেকে আছড়ে পড়ে। নাফাখুম জলপ্রপাত এ সূর্যের আলো এই জলপ্রবাহের খেলায় সৃষ্টি করে রংধনু। চারদিকে বড় বড় পাহাড়। নদীতে ছড়ানো অজস্র পাথর। পাথরগুলো দেখলে মনে হবে যেন এক-একটি ভাস্কর্য। এমন দৃশ্য বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রির নাফাখুম জলপ্রপাতের প্রতিচ্ছবি। অনিন্দ্য সুন্দর এই জলপ্রপাতটি রেমাক্রি থেকে মাত্র ২.৫-৩ ঘন্টা পায়ে হাটার পথ দূরত্বে অবস্থিত। আপনি যদি আডবেঞ্চার প্রিয় হন প বান্দরবন ট্রেকিং করার ইচ্ছে থাকে, কিংবা দেখতে চান বান্দরবন এর গহীনে সবুজের অপরুপ সৌন্দর্য । আদিবাসীদের জীবন বৈচিত্র্য, সাঙ্গু নদীর ভয়ংকর বা টলটলে শীতল পাহাড়ি পাথুরে জলের ছোঁয়া পেতে ৃন চায় তবে একবার হলেও যেতে হবে নাফাখুম জলপ্রপাত। 

কখন যাবেন 

সারাবছর ধরেই ভ্রমণ পিপাসুদের যেতে দেখা যায় নাফাখুম জলপ্রপাত এ। তবে বর্ষা মৌসুমে সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে 

রেমাক্রি ঝর্ণা

রেমাক্রি মুলত একটি খাল। এটি হল শঙ্খ নদীর একটি উপখাল। এ খাল যেখানে ঝরণা আকারে শঙ্খ নদীতে এসে মিশেছে সেখানে অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছে। রেমাক্রীর খালের পানি ও ঝরণার গান আর অরণ্য  মিলেমিশে এক অপরূপ সৌন্দর্য সৃষ্টি হয় । 




দেবতাখুমঃ

স্বর্ন মন্দিরঃ

তিন্দুঃ

সাতভাইখুমঃ



ট্রাভেল গ্রুপ এর কাজ ও রুলস

 দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে পর্যটন শিল্পী পর্ব বৃহৎ খ্যাত। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 



পর্যটক খ্যাত থেকে দেশের বৃহৎ অংশের যোগান হয়। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে পর্যটন শিল্পী প্রচুর সমৃদ্ধি ঘটেছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে আধুনিকতার ছোঁয় পেয়ে দেশের পর্যটন এলাকা ও সৌন্দর্য ছড়িয়ে পরেছে মানুষের কাছে। মুহূর্তে সৌন্দর্য উপভোগ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার হয়ে যায় সবার মাঝে। অদৃশ্য লুকায়িত সৌন্দর্য ও তার বিস্তারিত বিবরণ সবার মাঝে শেয়ার হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে দিন দিন মানুষের ভিতরে ভ্রমণের আগ্রহ বেড়ে চলছে। যোগাযোগ ব্যাবস্থা আগের তুলনায় আরও উন্নত ও সহজ হওয়াতে মানুষ এখন ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি। আর প্রকৃতি প্রেমীদের কথা তো ভিন্ন।  তারা প্রকৃতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরুপ সৌন্দর্য খুঁজে খুঁজে বের করে তা উপভোগ করে। 

ট্রাভেল গ্রুপ এর কাজঃ

একটা সময় ছিল ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য বানিজ্যিক কিছু ট্রাভেল গ্রুপ। বর্তমান সময়ে অনেক গুলো অনলাইন ট্রাভেল গ্রুপ তৈরি হয়েছে। যারা ফেসবুকে গ্রুপ তৈরি করে কাজ করে। পর্যটন শিল্পী কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশ ও দেশের বাহিরে সকলের সামনে তুলে ধরছে বাংলার অপরুপ সৌন্দর্য ও প্রকৃতির কথা। শুধু  বাংলাদেশ নয় পর্যটন খ্যাত যে কোন দেশের টেকশই অর্থনৈতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দৃষ্টিনন্দিত প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পর্যটন কেন্দ্রময় দেশ। তথ্য প্রযুক্তির যুগে ট্রাভেল গ্রুপ নানাভাবে রিপ্রেজেন্ট করছে বাংলাদেশ কে। সোস্যাল মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে সবার সাথে বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট, ভিডিও ব্লগ, ছবির মাধ্যমে শেয়ার করছে। যার ফলে মানুষ জানার মাধ্যম সহজতর হচ্ছে। নানান পেশার নানান মানুষের ভিতরে ভ্রমণের আগ্রহ জাগ্রত হচ্ছে। ফেসবুকে অনেক গুলো গ্রুপ /পেইজ আছে যারা সব সময় বিভিন্ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করে চলছে মানুষের সাথে, ভ্রমণ পিপাসুদের দল সেখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিবরণ নিয়ে সহজে ভ্রমণ করে থাকে। ট্রাভেল গ্রুপ গুলো দেশকে পর্যটন খ্যাতে এগিয়ে নিয়ে যেতে বন্ধু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তথ্য ও প্রযুক্তির প্রচারের মাধ্যমে সম্প্রতি ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। অনলাইন মাধ্যমে ট্রাভেল গ্রুপ গুলো  থেমে নেই, বিভিন্ন ট্রাভেল গ্রুপ গুলো প্রতিযোগিতা করে পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে লেখালেখি করে যাচ্ছে। সকলের কাছে সকল ইনফরমেশন শেয়ার করে চলছে, যা ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে সবার মাঝে। প্রায় প্রতি মাসেই বিভিন্ন ইভেন্ট এ ট্যুরের আয়োজন করে থাকে। ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ গুলো রুপ নিয়েছে ট্রাভেল এজেন্সিতে। প্রতি বছর ২৭ শে সেপ্টেম্বর উদযাপন করা হয় বিশ্ব পর্যটন দিবস। এই সময় আলোচনা করা হয় বেশ কিছু অনলাইন নির্ভর ট্রাভেল গ্রুপের সাথে। সেখানে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে কিভাবে দিনে দিনে ট্রাভেল গ্রুপ এত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ট্রাভেল গ্রুপ গুলো দলগতভাবে বিভিন্ন পেইজে ও গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্যুর ইভেন্ট তৈরি করে থাকে। কম খরচে একটা ইভেন্ট তৈরি করে, তা সবার সাথে শেয়ার করে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল বিভিন্ন ছুটির দিন ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ট্যুর ইভেন্ট তৈরি করে থাকে। মানুষ স্বাভাবিক ভাবে একটু ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চায় তাই ভ্রমণের জন্য ঝামেলা এড়িয়ে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনলাইন নির্ভর ট্রাভেল গ্রুপ কে বেছে নিচ্ছে। এতে খরচ ও তূলনামূলক কম হয়। একসাথে অনেকের ভ্রমণ করার সুযোগ হয়। বিভিন্ন ক্যাটগরিতে ট্যুর অপারেটর গুলো ট্যুর প্যাকেজ তৈরি করা ও ট্রাভেলার দের বিভিন্ন স্পষ্ট ঘুরিয়ে আনার কাজ করে থাকে। এতে করে নতুন কারো জন্য ভ্রমণ করতে অসুবিধা হয় না।এতে যদিও ট্যুর অপারেটর গ্রুপ গুলোর প্রচুর দৌড়াদৌড়ি করতে তবে এতে করে ট্রাভেলার ও ট্যুর গ্রুপ সবার ই উপকার হয়ে থাকে। বর্তমানে দেশের অনেক গুলো ট্রাভেল গ্রুপ আছে যাদের সব সময় কোথাও না কোথাও ট্যুর করেই থাকে। বর্তমানে ট্রাভেলাররা একা একা ভ্রমণ না করে ট্রাভেল গ্রুপের সাথে দলগত ভাবে ভ্রমণ করতে আগ্রহী হচ্ছে। 


মোঃ শওকত আলী 

স্বপ্নবাজ বিডি ট্রাভেলস (ফাউন্ডার এডমিন) 

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, বান্দরবন

 বান্দরবন যতগুলো পর্যটন স্পষ্ট আছে, সেগুলোর মধ্যে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র অনেক বেশি সুন্দর সম্ভবত।



 বান্দরবন শহরের প্রবেশদ্বার - কেরানী হাট সড়কের পাশে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবন শহরে প্রবেশ করার ৫ কি.মি আগেই পেয়ে যাবেন। মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র চিত্তবিনোদনের জন্য  অনেক কিছু রয়েছে। চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, ক্যাবল কার,সাফারি পার্ক,প্যাডেল বোট,উন্মুক্ত মঞ্চ, চা বাগান, মেঘলা ঝুলন্ত ব্রিজ সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় এক স্পষ্ট। এখানকার সবুজ প্রকৃতি, লেকের স্বচ্ছ পানি আর পাহাড়ের চূড়ায় উঠে  দেখতে পারবেন বান্দরবন শহরের নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্য্যের খেলা। মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে বেশ কিছু উচু নিচু পাহাড় বেষ্টনী দ্বারা একটি লেককে ঘিরে। ঘন সবুজ গাছপালা আর স্বচ্ছ লেকের পানি প্রতিনিয়ত প্রকৃতি প্রেমীদের নিয়ে যায় মনোরম পরিবেশে।


প্রবেশ মুল্যঃ

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে জনপ্রতি প্রবেশ ফি ৫০/- এবং গাড়ি পাকিংয়ের জন্য ২০০-৩০০ টাকার মতন লাগবে

কীভাবে যাবেনঃ

প্রথমে আপনাকে বান্দরবান শহরে যেতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির গাড়ি ছেড়ে যায়।

চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান যেতে পারেন। বদ্দারহাট থেকে বান্দারবানের উদ্দেশে পূবালী ও পূর্বানী পরিবহনের বাস যায়। এরপর বান্দরবান বাস ষ্টেশন থেকে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স যেতে লোকাল বাসে জনপ্রতি ১৫-২০ টাকা এবং টেক্সি রিজার্ভ ১৫০-২০০ টাকা, এবং ল্যান্ড ক্রোজার, ল্যান্ড রোভার ও চাঁদের গাড়ী ৫০-৬০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।

কোথায় থাকবেন

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে জেলা প্রশাসনের একটি সুন্দর রেস্ট হাউজ রয়েছে। যেখানে অবকাশ ভোগ করা যায় ভালভাবে। এখানে রাত্রিযাপনের জন্য চারটি কক্ষ রয়েছে। কেউ রাত্রি যাপন করলে আগে থেকে যোগাযোগ করে বুকিং কনফার্ম করে নিবেন। 

বান্দরবানে অসংখ্য রিসোর্ট, হোটেল, মোটল এবং রেস্টহাউজ রয়েছে। যেখানে ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

কোথায় খাবেনঃ

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র ঘুরতে গেলে আশেপাশে তেমন ভাল মানের  কোন খাবার হোটেল নেই। তবে বান্দরবান শহরে বাস স্ট্যান্ডে গেলে খাবারের হোটেল পাবেন।  কিছু কম খরচে খেতে হলে হোটেল নীল দিগন্ত ও হোটেল গাউশিয়া আছে। ভালো মানের খাবারের জন্য যেতে হবে হোটেল হিল ভিউ ও কলাপাতা রেস্টুরেন্ট।



মোঃ শওকত আলী 

স্বপ্নবাজ বিডি ট্রাভেলস (ফাউন্ডার এডমিন) 

Sunday, February 12, 2023

পহেলা ফাল্গুন বসন্তের আগমন।

আজ ফুল ফুটুক আর নাই বা ফুটুক তবুও আজ বসন্ত।



ঋতুর রাজা বসন্ত, বসন্তের আগমনী বার্তা দরজায় কড়া নরে পহেলা ফাল্গুনে। ফাল্গুনের প্রথম প্রহরে প্রকৃতি জানান দিয়ে যায় বসন্তের আগমন।  বসন্ত ঋতুতে প্রকৃতি সাজে তার আপন মহিমায়। প্রান ফিরে পায় শুষ্ক প্রকৃতি বসন্ত ঋতুতে। 

বসন্ত ঋতু হল বাংলা ছয় ঋতুর শেষ ঋতু। বাংলা মাসের ফাল্গুন ও চৈত্র মাস এই দুই মাস মিলে বসন্ত কাল হয়। দূর থেকে ভেসে আসা কোকিলের কুহু কুহু ডাক ই বলে দেয় ঋতুরাজ বসন্ত চলে এসেছে। বসন্ত আসলে প্রকৃতিতে বিশাল এক রদবদল আছে, প্রকৃতির মাঝে সর্বত্র পরিবর্তন দেখা যায়, গাছে গাছে নতুন কুড়ি,শাখায় শাখায় ফুল ফুটে। প্রকৃতির চারপাশে মৌ মৌ ফুলের সুভাষ শুধু বসন্ত ঋতুতেই সম্ভব। বসন্ত ঋতুতে কৃষ্ণচূড়ায় ডালে ডালে তার বাহারি সৌন্দর্য ছড়িয়ে প্রকৃতিকে সুভাবর্ধন, লাল টুকটুকে ফুলে ছটকা ছড়িয়ে বিমোহিত করে প্রকৃতি প্রেমীদের। দূর থেকে মনে হবে কৃষ্ণচুড়ার ডালে ডালে আগুন ঝড়ছে। শিমুল বাগানে ফুটে ওঠে শত শত শিমুল, ডালে ডালে পাখিদের বিচরন।



গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়,কুড়ি মেলে নতুন করে। নতুন করে মুকুল ধরে। ফুল আর ফলের সৌরভ দিয়ে বুঝিয়ে দেয় বসন্তের আগমন। বসন্ত এলে আমের বনে গুটি গুটি আম ধরে। এই ঋতুতে চাপা,গন্ধরাজ, দোলনচাঁপা, হাসনেহেনা ফুল সৌরভ বিলিয়ে বসন্তকে করে তুলে সুন্দর সুসজ্জিত এক ঋতু। এই সময়ে বাজারে নতুন সবজি ওঠে, এই ঋতুতে কাঁঠাল গাছে মুচি আছে। বসন্ত ঋতু ফুল ও ফলের বেড়ে ওঠার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

  বসন্ত এলে প্রকৃতির সাথে সাথে মানুষের হৃদয়ে ও পরিবর্তন ঘটে,বসন্তের উপস্থিতিতে সর্বত্র পরিবর্তন ঘটে।

বসন্তের আগমন ঘটে হালকা হালকা শীতে এবং শেষে গরম অনুভূতি দিয়ে বসন্ত ঋতু বিদায় নেয়। বসন্তের শেষ বৈশাখে শুরু হয় কাল বৈশাখী ঝড়ের দিন সেই সময়টা প্রকৃতিতে প্রচন্ড তাপদহ থাকে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকে, প্রকৃতি জুড়ে জলশূন্যতা দেখা দেয়। প্রকৃতির এই পরিবর্তন পালা বদল দেখে বসন্ত ঋতু কে উপাধি দেওয়া হয়েছে ঋতুরাজ বলে। দক্ষিনা ঝির ঝির বাতাসে, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া নিয়ে উপস্থিত হয় বসন্তের। শীতের নির্জীব প্রকৃতি যেন জেগে ওঠে ।  শীতের পরে রুপ,রস,গন্ধ, সৌন্দর্যের ঢালি নিয়ে আসে ঋতুরাজ বসন্ত। কবির কাছে বসন্ত ঋতুরাজ, আর ভাবুকের কাছে বসন্ত হল যৌবনের ঋতু নামে আখ্যায়িত। 


বসন্তের আগমনে প্রকৃতি তার জরাজীর্ণ মুছে ফেলে, নিজেকে সাজিয়ে নেয় সদ্য যৌবন প্রাপ্ত কিশোরীর মতন। বসন্ত এসে যেন প্রকৃতিকে দান করেছে যৌবনের উন্মাদনা। জরাজীর্ণ মৃত্যু প্রায় ডালে ডালে উঁকি দেয়া নতুন কুড়ি। বসন্ত আছে পাখির কলকাকলি আর সবুজের অপার সমাহার নিয়ে। প্রকৃতি এই সময়ে নব রুপে সাজে। রংবেরঙের ফুলে ফুলে ভরে যায় গাছ গাছালি। 

তাইতো কবি বলেন___

"আহা আজি এ বসন্তে 

এত ফুল ফোটে,

এত বাঁশি বাজে 

এত পাখি গায়..."


Saturday, January 14, 2023

নীলাচল, বান্দরবন ভ্রমণ

 বান্দরবন যতগুলো পর্যটন স্পষ্ট আছে, সেগুলোর মধ্যে নীলাচল সবচেয়ে বেশি সুন্দর সম্ভবত। এই পাহাড় থেকে এক নজরে দেখে নিতে পারেন বান্দরবন শহরটা। এখান থেকে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখতে পারবেন। নীলাচল পাহাড়ি এলাকাটি অনেকেই স্বর্গভূমি বলে থাকেন। 

নীলাচলঃ



নীলাচল তার পূর্ণ রুপ ধারণ করে সকালের মেঘের খেলা আর বিকেলের সূর্যাস্তের সময়। আপনি সূর্যাস্ত দেখতে চাইলে অবশ্যই আসতে হবে নীলাচলে। একি সাথে একটা আকাশে দুই রং দেখতে চাইলে সূর্য ডোবার আগেই আপনাকে থাকতে হবে  নীলাচল। উপরে সাদা নীচে নীল রংয়ের আভা তাই টই জায়গার নাম নীলাচল। বান্দরবান শহর তেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০০ ফট উপরে টাইগার পাড়ায় পাহাড়ের উপরে নীলাচল অবস্থিত।  নীলাচল অনেকের কাছে টাইগার হিল নামেও পরিচিত। আঁকাবাকা পাহাড়ি পথ,আকাশ, পাহাড় আর মেঘের অপূর্ব প্রকৃতিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হতে সারাদিন থাকতে মন চাইবে নীলাচলে। নীলাচলে থাকার জন্য কয়েকটা বিশ্রামাগার ও আছে তবে রাতে থাকতে চাইলে থেকে যেতে পারবেন রিসোর্টে। মেঘের দেখা পেতে চাইলে খুব ভোরে চলে যেতে হবে নীলাচলে। পাখির ভোরের ডাকের সাথে দেখে নিতে পারেন বান্দরবন পুরো শহরটাকে। 



মেঘ মুক্ত আকাশে নীলাচল থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এর দৃশ্য ও নীলাচল থেকে উপভোগ করতে পারেন। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় নীলাচল এর দৃশ্য আপনাদের মনে স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দিবে। নীলাচলে বর্ষা, শরৎ ও হেমন্ত এই ঋতুতেই মেঘের ছোঁয় পাবেন। পর্যটকদের জন্য নীলাচলে সম্প্রতি কিছু জায়গা তৈরি করা হয়েছে। নরলাচলের টিকিট ঘরের পাশে ঝুলন্ত নীলা থেকে শুরু করে ক্রমশ নিচের দিকে বেশ কিছু বিশ্রামাগার তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ভ্যালেন্টাইন ও নীহারিকা। এই জায়গাগুলো মূলত পাহাড়ের ঢালে ঢালে সাজানো হয়েছে। এগুলো একটা থেকে আরেকটা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে একেক জায়গা থেকে পাহাড়ের দৃশ্য একেক রকম দেখবেন। তবে মুল নীলাচলের সৌন্দর্য অনেক গুন বেশি। সেখান থেকে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় সুন্দর ভাবে। নীলাচল পাহাড়ের একেবারে চুড়ায় পর্যটকদের জন্য রয়েছে কিছু পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। নীলাচল পাহাড়ের শিখরের চারপাশে রয়েছে মনোরম স্থাপনা শৈলীতে নির্মাণ করা এই কেন্দ্র গুলো।বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে এখানে চলে মেঘর খেলা। কিছু সময় পর পর দূর পাহাড় থেকে মেঘ ভেসে আসে নীলাচলের চূড়ায়। চারপাশ ঢেকে পেলে শীতল নরম পরশে। এখানকার বাড়তি আকর্ষণ হল এখানকার রিসোর্ট গুলো। নীলাচল স্কেপ রিসোর্ট। সাধারণত অতিথিদের জন্য সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা এই জায়গা। 

নীলাচল যাবার উপায় 

ঢাকা থেকে বান্দরবন এসে নামতে হবে,বান্দরবন শহর থেকে সিএনজি, অটো,জীপ,চান্দের গাড়ি করে নীলাচল যেতে পারবেন। নীলাচল যাওয়া আসা ও অবস্থান করার উপর নির্ভর করে অটোগুলো ৭০০-১০০০ টাকা নিতে পারে।  সিএনজি নিলে ১০০০-১২০০ টাকা। জীপে গেলে ১২০০-১৫০০ টাকার মতন, চান্দের গাড়ি নিলে ২০০০-২৫০০ টাকার মতন লাগতে পারে। 

খাবেন কোথায় 

আপনি যদি নীলাচ স্ক্যাপ রিসোর্ট এ রাত্রি যাপন করেন তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ খাবারের ব্যবস্থা করে দিবে। একটিমাত্র রেস্টুরেন্টে রয়েছে ফরেস্ট হিল নামে,এছাড়া ভালো তেমন খাবার এর ব্যবস্থা নেই। প্রয়োজনে বান্দরবন যেতে হালকা কিছু খাবার সাথে নিতে পারেন অথবা নীলাচল থেকে ফিরে বান্দরবন এসে খেতে পারেন। বান্দরবন শহরে বেশ কিছু খাবার হোটেল রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য  মেঘদূত ক্যাফে,তাজিং ডং ক্যাফে,ফুড প্লেস,রুপসী বাংলা, রি সং,কলাপাতা রেস্তোরাঁ অন্যতম।

থাকবেন কোথায় 

 নীলাচল থাকতে চাইলে নীলাচল স্কেপ রিসোর্টে তিনটি কটেজ থেকে আপনার জন্য বেছে নিতে পারেন। তবে নীলাচল স্কেপ রিসোর্ট এ থাকতে হলে আগে থেকে বুকিং দিয়ে কনফার্ম করে রাখতে হবে। প্রতিটি কটেজ এ দুটি করে রোম আছে, প্রতি রুমের ভাড়া ৩০০০ টাকা করে। তাছাড়া নীলাচল বান্দরবন শহরের কাছে হওয়ায় আপনি চাইলে বান্দরবন শহরে কোন হোটেল এ ও থাকতে পারেন। 

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র

নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র

মোঃ শওকত আলী 

স্বপ্নবাজ বিডি ট্রাভেলস (ফাউন্ডার এডমিন) 

Featured Post

লালাখাল নৈসর্গিক সৌন্দর্যময় এক পর্যটন কেন্দ্র

  লালাখালঃ লালাখাল সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি দূরে অবস্থিত।  একটি পর্যটন কেন্দ্র। জৈন্তাপুর পুর উপজেলায় একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। ভারত...

Popular Contain